আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
আগমন মর্ত্যলোকে নৌকায় স্বর্গালোকে গমন অশ্বারোহীতে      মিয়ানমারের এবারের অভিযান রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূলের ‘সর্বশেষ ধাপ’       মুসলিম ছেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও চা খাওয়ার অপরাধে হিন্দু ছাত্রীকে বিজেপি নেত্রীর থাপ্পড়      মালিতে বিদ্রোহীদের পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৩, আহত ৪ বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী       উল্টোপথে মন্ত্রী-এমপি'র গাড়ী:মন্ত্রী-সচিব থাকা অবস্থায় উল্টো পথে গাড়ী চালাল চালকরা!      শেখ হাসিনাকে 'হত্যার ষড়যন্ত্রের' মিথ্যা খবর প্রচারকারী নিউজ-এইটিনের যত গল্প..      ঢাকা থেকে পালিয়ে আসা স্ত্রী হত্যাকারী ঘাতক স্বামীকে সুনামগঞ্জে গ্রেফতার      
জ্বীন জাতির আদ্যোপান্ত -পর্ব ১
Published : Tuesday, 16 May, 2017 at 11:37 AM, Update: 21.06.2017 3:57:43 PM, Count : 851
জ্বীন জাতির আদ্যোপান্ত -পর্ব ১** এই ধারাবাহিক প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে বিডিহটনিউজ কর্তৃপক্ষ কোন দায়িত্ব বহন করছে না। বরং, বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহৃত তথ্যের উপর ভিত্তি করে মানুষের আগ্রহের বিষয় সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ইসলাম ধর্মের অনুসারী বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এমন কি এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত হাদিসের সত্যতা সম্পর্কেও সাইট কর্তৃপক্ষ কোন দায়িত্ব নিচ্ছেনা। বরং,বিভিন্ন ব্যক্তির লেখায় উল্লেখিত হাদিস গুলোকে ব্যবহার করা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোট: জিন সম্পর্কে অনেক কথাই আছে।কেউ জিনকে বিশ্বাস করে কেউ করে না। অনেক মানুষকে জিনে ধরেছে বলে শুনা গেলেও জিনের সাথে কথা বলা মানুষের বিষয়ে সত্যতা নিরুপণ সম্ভব হয়নি। এক্ষেত্রে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে জীবজন্তুর মধ্যে কেবল জিন-ইনসানের বিচার হবে। অবশ্য জ্বিনের অস্তিত্ব নিয়ে কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করেন। আবার অনেকে বিশ্বাস করলেও মুহূর্তে আবার অলৌকিকতার আওতায় ফেলে বেমালুম নয়-ছয় চিন্তা করতে থাকেন। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, ১৯৮৭ সালে মিষ্টির মার্কেটিং নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত জরিপ হয়েছিল, যার টিম লিডার ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশীদুল হাসান। এই জরিপে বিভিন্ন ইনকাম গ্রুপের Representative sample হিসেবে ১৭৫ জনের (প্রণয়নকৃত প্রশ্নমালার মাধ্যমে) সাক্ষাত্কার নেওয়া হয়। আর যে সমস্ত ব্র্যান্ডের মিষ্টি এর আওতায় ছিল, তা হলো আলাউদ্দিন সুইটমিট, মরণচাঁদ, মুসলিম, জলখাবার ইত্যাদি। এক্ষেত্রে ভোক্তাদের পাশাপাশি মিষ্টি দোকান মালিকদেরও সাক্ষাত্কার নেয়া হয়। আর এটি এলাকাভিত্তিক (Chunk) করা হয়েছিল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, যখন পুরোনো ঢাকার মিষ্টি দোকান মালিকদের সাথে তাঁদের বিক্রয়ের পরিধি ও এর আওতার শ্রেণীভিত্তিক ভোক্তাদের নিয়ে কথা বলা হয়, তাতে মজার তথ্য উদঘাটিত হয়ে আসে। এ প্রেক্ষাপটে অধিকাংশ দোকান মালিকরা বলেন যে, তাঁদের পটেনশিয়াল ক্রেতার একাংশ হলো জিন। তারা মানুষ রূপে রাত ১২ টার পরে মিষ্টি কিনতে আসে। কিন্তু তাদের অবস্থান ও প্রকৃতি সাধারণ মানুষ না বুঝতে পারলেও দোকানদাররা ঠিকই বুঝতে পারেন।
সঙ্গত কারণেই জিন সম্পর্কে অন্যান্য বিষয়াদি কিঞ্চিত্ তুলে ধরা হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে উল্লেখ্য যে, জিন জাতির উদ্ভব সম্পর্কে যতদূর জানা যায়, তাতে দেখা যায় মানব সৃষ্টির প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বে এদের সৃষ্টি। আসলে জ্বিনের অস্তিত্ব সম্পর্কে অনেকেই সন্দেহ পোষণ করেন। কিন্তু জিন সম্পর্কে আল-কোরআন ও হাদিসে জোরালো যুক্তি রয়েছে। মূলত জিন শব্দের অর্থ হলো গুপ্ত, অদৃশ্য, লুক্বায়িত ইত্যাদি। উল্লেখ্য যে, শয়তান বা ইবলিস জ্বিনের বংশধর। আল্লাহপাকের অবাধ্যতার কারণে তার এহেন অবস্থা। সাধারণত জিন জাতি কয়েক শ্রেণীর আওতাভুক্ত- যেমন: ক) জিন (সাধারণ জিন), খ) আমির (যারা মানুষের সাথে থাকে), গ) আরওয়াহ (যারা মানুষের সম্মুখে বিভিন্ন সুরতে আবির্ভূত হয়, ঘ) শয়তান (যারা সৃষ্টিরকর্তার অবাধ্য, ঔদ্ধত ও অহংকারী, ঙ) ইফরীত্ব (যারা অনেক সময় শয়তানের চেয়ে ভয়ংকর)। উল্লেখ্য যে, জিনদের গঠনমূলক কায়া সূক্ষ্ম ও অবিমিশ্র। হাদিস শরীফে বলা হয়েছে যে, আল্লাহতা’লা আবুল জিন্নাত সামুমকে (ইনসানের আদি পিতা আদমের ন্যায় জিন জাতির আদি পিতা) আগুনের শিখা দিয়ে তৈরি করার পর আল্লাহপাক বলেন, “তুমি কি চাও”। উত্তরে জিন্নাত সামুম বলে, “আমি ও আমার জাতির জন্যে তিনটি জিনিস চাই- প্রথমত. এ দুনিয়াতে যেন অদৃশ হয়ে থাকতে পারি, দ্বিতীয়ত. বৃদ্ধ হয়ে যেন আবার যুবক হয়ে মারা যাই এবং তৃতীয়ত. মারা গেলেও, এই ভুবনের মাঝে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারি। আল্লাহতা’লা তার প্রার্থনা মঞ্জুর করার পর চাহিত সবকিছুর আবর্তে তারা এই বিশ্বে সূক্ষভাবে বিচরণ করতে থাকে। উল্লেখ্য যে, আরব্য রজনীর কাহিনীর মতো সব সময় জিন অসাধ্য সাধন করতে পারে না। কেননা ঝড়-বাদলের দিনে জিনরা চলতে পারে না। কারণ তারা আগুনের তৈরি বিধায় বৃষ্টির সময় আয়োনাজাইশেন ও বজ্রপাতের তীব্র আলোক ছটায় তাদের ক্ষতি হয়ে থাকে এবং কোন ঘরে যদি নির্দিষ্ট কিছু দোয়া-কালাম ও কাঁচা লেবু থাকে, তাহলে ঐ ঘরে জিন প্রবেশ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আর একটি কথা মানুষ মাটি দিয়ে সৃষ্টি হলেও, শেষ পর্যন্ত এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। কারণ মানুষ মূলত মাটি, পানি, বায়ু ও অগ্নির সংমিশ্রণ। আর তাই জিন আগুনের শিখা দিয়ে পয়দা হলেও তাদের দেহে জলীয় পদার্থের সমাবেশ লক্ষণীয়। এর স্বপক্ষে যুক্তি হলো: রসুল (স.) একদা উল্লেখ করেছিলেন যে, শয়তান বলে একটি জিন একদা নামাজের সময় তাঁর সাথে মোকাবিলা করতে এলে তিনি ঐ জিনকে গলা টিপে ধরলে, সেইক্ষণে জ্বিনের থুথুতে শীতলতা অনুভব করেছিলেন। এতে প্রতীয়মান হয় যে, জিন যদি পুরোপুরি দাহ্য হতো, তাহলে ঠাণ্ডা থুথুর থাকার কথা নয়। এদিকে জিন তিন প্রকারের আওতায় বিদ্যমান, প্রথমত. জমিনের সাপ, বিচ্ছু, পোকা-মাকড়, ইত্যাদি; দ্বিতীয়ত. শূন্যে অবস্থান করে এবং শেষত সেই প্রকারের জিন, যাদের রয়েছে পরকালে হিসাব। পূর্বেই বলেছি, এরা সূক্ষ্ম, তাই স্থূল মানুষ বা পশু-পাখি জিনদের দেখতে পারে না। তবে কুকুর ও উট এদের হুবহু দেখতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে উল্লেখ্য যে, রাতে কোন অপরিচিত বস্তু বা জীব চোখে না দেখা গেলেও কুকুর কি যেন দেখে ছুটাছুটি ও ঘেউ ঘেউ করলে তাতে জ্বিনের আবির্ভাব হয়েছে বলে বুঝতে হবে। জিন বহুরূপী। এরা মানুষ, পশু-পাখি, ইত্যাদি যে কোন সুরত ধরতে পারে। সেই ক্ষণে উক্ত জীবের বৈশিষ্ট্যের আদলে তার ঘনত্ব কম-বেশি হয়ে থাকে এবং মানুষের দৃষ্টির মধ্যে আসে।
এখন আবার আমাদের প্রতিপাদ্য কথায় ফিরে আসি। হয়তো বর্ণিত আলোচনায় বাস্তব তথ্যাদি থেকে পাওয়া গিয়েছে যে জিনদের মিষ্টি খুব প্রিয় এবং যা শখ করে খেয়ে থাকে। আর এটা পবিত্র আল-কোরআন ও হাদিস দ্বারা সমর্থিত। তবে জিনদের সম্পর্কে কাজী আবু ইয়ালা (রহঃ) বলেছেন যে, জিন মানুষের ন্যায় খাওয়া-দাওয়া করে থাকে। এরাও চিবিয়ে এবং গিলে খায়। তাছাড়া জ্বিনের খাওয়া-দাওয়া নিয়ে ইয়াবীদ বিন জাবির বলেছেন যে, মুসলমান জিন মানুষরা বাড়িতে যে খাবার রাখে, আর সেই বাড়ির চালে কিম্বা ছাদে বসবাসরত ঐ জিনরা নেমে এসে সে খাবার খেয়ে থাকে। অনেক সময় মানুষের সাথে বসেও খায়, অথচ মানুষ স্থূল বিধায় অতসব খেয়াল করতে পারে না। আর এসব জিনরা মানুষদের বালা-মুসিবত ও মন্দ-জিন থেকে রক্ষা করে থাকে। এদিকে খারাপ জিনরা সাধারণত নাপাক নোংরা জায়গায় থাকে, যেমন-ময়লার গাদা, আঁস্তাকুড়, নর্দমা, গাছের ঝাড়, গোসলখানা, পায়খানা, ইত্যাদি। মূলত জ্বিনের প্রধান খাদ্য হলো- হাড়, গোবর, কয়লা ইত্যাদি। তিরমিযী হাদিসে উল্লেখ আছে যে, নবী করীম (স.) বলেছেন, “তোমরা দুটি জিনিস অর্থাত্ হাড় ও গোবর দিয়ে ইন্তিজা করো না, কেননা ওগুলো হলো তোমাদের জিন ভাইদের খাদ্য”। আর তারা শখ করে পরম আদরে মিষ্টি খেয়ে থাকে। তাই বর্ণিত জরিপে পুরোনো ঢাকার উদ্ঘাটিত সত্যের আলোকে মিষ্টি খাওয়ার বিষয়টির সাথে হুবহু মিল আছে। সেহেতু জিন আছে বা নেই সে বিষয়ে আর সন্দেহ তো থাকার কথা নয় এবং জ্বিনে যে মিষ্টি খায় সেটা সম্পর্কেও আর সংশয়ের অবকাশ নেই।
জ্বীন জাতি হচ্ছে ইসলাম ধর্মের মূল গ্রন্থ কোরআনে বর্ণিত একটি জীব বা সৃষ্টি। প্রাক ইসলামী যুগেও জ্বীন জাতি সংক্রান্ত বিশ্বাস অন্যান্য আরব এবং এর কাছাকাছি এলাকায় বিদ্যমান ছিল। আরবি জ্বীন শব্দটির আক্ষরিক অর্থ কোন কিছু যা গুপ্ত, অদৃশ্য, অন্তরালে বসবাসকারী বা অনেক দূরবর্তী।কুরআনে জ্বীন ও ইনসান (মানুষ) এই দুই জাতির অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছে। বৈজ্ঞানিকেরা এখনও জ্বীনের অস্তিত্বের প্রমাণ আবিষ্কারে সক্ষম হন নি। তবে বিভিন্ন মুসলমান সমাজে কিছু কিছু মানুষ কর্তৃক জ্বীন বশীভূত করা বা জ্বীনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি প্রচলিত আছে।
ইসলাম ধর্ম আবির্ভাবের অন্তত কয়েক শত বছর পূর্বে প্রাচীন আরবে জ্বীনের কিংবা সেরূপ কোন চরিত্রের আরাধনা প্রচলিত ছিল বলে নৃতত্ত্ববিদেরা প্রমাণ পেয়েছেন। পালমাইরার নিকট বেথ ফাসি'এল থেকে প্রাপ্ত আরামিক লিপিতে "জিনায়ে" কে "ভাল এবং ফলপ্রসূ ঈশ্বর" হিসেবে সম্মান জানানো হয়েছে।এই ব্যাপারে তর্ক আছে যে, "জিনায়ে" শব্দটির থেকে আরবি জ্বীন শব্দের উৎপত্তি। কোরান এবং ইসলাম ও প্রাক-ইসলাম যুগের সাহিত্যে অনেক সংখ্যকবার জ্বীনের উল্লেখ ইঙ্গিত দেয় যে জ্বীনের অস্তিত্বে বিশ্বাস প্রাক-ইসলামিক বেদুইন ধর্মে বেশ প্রভাবশালী ছিল।যাই হোক, জ্বীন শব্দটি যে আরামিক থেকে আগত তা খৃষ্টানরা প্যাগান ঈশ্বরদের ডেমন আখ্যা দেয়ার মাধ্যমে সে ব্যাপারে প্রমান পাওয়া গিয়েছে। যা পরবর্তীতে আরবীয় লোক গাঁথায় প্রাক-ইসলামিক যুগে প্রবেশ করে।জুলিয়াস ওয়েলহসেন পর্যবেক্ষণ করেন যে এই ধরণের আত্মারা জনশূন্য, অন্ধকার ও নোংরা পরিবেশে বিরাজ করে যেখানে সচরাচর এদের ভয় পাওয়া হয়। প্রচলিত মতে, মানুষকে এদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে চলতে হয় যদিও এদের বাস্তব অস্তিত্ব প্রশ্নস্বাপেক্ষ। ইঞ্জিল শরীফে একাধিকবার ইসা (আঃ) কর্তৃক ভূতে ধরা রোগীর চিকিৎসার কথা উল্লেখ রয়েছে
কুরআন অনুসারে জ্বীন জাতি মানুষের ন্যায় আল্লাহ সৃষ্ট অপর আরেকটি জাতি, যারা পৃথিবীতে মানব আগমনের পূর্ব থেকেই ছিল এবং এখনো তাদের অস্তিত্ব রয়েছে; তবে মানুষের চোখে তারা দৃষ্টিগ্রাহ্য নয়। কিন্তু, জ্বীনরা মানুষদেরকে দেখতে পায়।তারা বিশেষ কিছু শক্তির অধিকারী। তাদের মধ্যেও মুসলিম এবং কাফির ভেদ রয়েছে। তারা মসজিদে নামাজ পড়তে আসে। তাদেরও সমাজ রয়েছে। তাদের আয়ু মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। উদাহরণস্বরূপ, তারা ৩০০ বছর বয়সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়। ঈমাম ইবনে তাইমিয়ার মতে জ্বিন জাতি তাদের অবয়ব পরিবর্তন করতে পারে।
ইসলামের মতে জ্বীন জাতি এক বিশেষ সৃষ্টি। কুরআনের ৭২তম সুরা আল জ্বিন এ শুধু জ্বীনদের নিয়ে কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সূরা আন নাস এর শেষ অংশে জ্বীন জাতির উল্লেখ আছে। কুরআনে আরো বলা আছে হযরত মুহাম্মদ (সা:) কে জ্বীন এবং মানবজাতির নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। হযরত সুলায়মান (আ:) এর সেনাদলে জিনদের অংশগ্রহণ ছিল বলে কুরআনে উল্লেখ আছে। ইসলামে আরো বলা আছে "ইবলিশ" তথা শয়তান প্রকৃতপক্ষে জ্বীন জাতির একজন ছিল। ইসলামের মতে, শয়তান হচ্ছে দুষ্ট জ্বীন নেতা। ইবলিশ বা শয়তান ছিল প্রথম জ্বীন যে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করেছিল।কুরআনে উল্লেখ আছে যে, ইবলিশ এক সময় আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা ছিল । কিন্তু আল্লাহ যখন হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন, তখন হিংসা ও অহংকারের বশবর্তী হয়ে ইবলিশ আল্লাহর হুকুম অমান্য করে। এ কারণে ইবলিশ কে বেহেশত থেকে বিতাড়িত করা হয় এবং এরপর থেকে তার নামকরণ হয় শয়তান। ইসলাম পূর্ব আরব উপকথা গুলোতে জ্বীন সদৃশ সত্ত্বার উল্লেখ আছে। প্রাচীন সেমাইট জাতির জনগণ জ্বীন নামক সত্ত্বায় বিশ্বাস করতো। তাদের মতানুসারে নানা প্রকারের জ্বীন পরিলক্ষিত হয়। যেমন, ঘুল (দুষ্ট প্রকৃতির জ্বীন যারা মূলত কবরস্থানের সাথে সম্পর্কিত এবং এরা যেকোন আকৃতি ধারণ করতে পারে), সিলা (যারা আকৃতি পরিবর্তন করতে পারতো) এবং ইফরিত (এরা খারাপ আত্মা)। এছাড়া মারিদ নামক এক প্রকার জ্বীন আছে যারা জ্বীন দের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। প্রাচীন আরবদের মতে জ্বীন রা আগুনের তৈরি।
কুরআন এবং হাদীসের মতে জিনদের তৈরি করা হয়েছে ধোঁয়াবিহীন আগুন (আরবি শব্দ- 'নার') হতে। 'নার' শব্দটির কয়েকটি অর্থ আছে। ইবনে আব্বাসের (রাঃ) মতে, নার বলতে অগ্নিশিখার শেষ প্রান্ত বোঝানো হয়েছে। অন্য অনেকে মনে করেন, এর মানে হচ্ছে বিশুদ্ধ আগুন। আবার কেউ কেউ একে তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ বা অন্য কোনো তরঙ্গ-জাতীয় অস্তিত্ব বলে থাকেন। ইসলামী বিশ্বাস মতে, জিনদের সৃষ্টি করা হয়েছে মানবজাতির আগে। বলা হয়েছে, মানবজাতির আবির্ভাবের আগে জিনরাই এই পৃথিবীতে রাজত্ব করত; পরে অবাধ্যতার অপরাধে এদেরকে উৎখাত করা হয়েছে; তাই বর্তমানে এরা পৃথিবীতেই নির্জন স্থানসমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করছে।
জ্বীনদের নাম, পরিচয় ও তাদের কাজ
১. ‘ইবলিস’ – আদম (আঃ) কে দিয়ে যেই জ্বীন আল্লাহর আনুগত্য থেকে তাকে বিচ্যুত করেছিল – তার নাম হচ্ছে ইবলিস। আল্লাহ তাকে সরাসরি আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন, সে হচ্ছে প্রথম জ্বীন যেমন আদম (আঃ) হচ্ছেন প্রথম মানুষ। আদম (আঃ) কে সিজদা করতে অস্বীকার করে সে আল্লাহর সামনে অহংকার প্রদর্শন করে – এই কারণে সে ‘কাফের’ হয়ে চির জাহান্নামী ও আল্লাহর অভিশাপ প্রাপ্ত। তার সন্তানদের কেউ ঈমানদার মুসলিম, আবার কেউবা কাফের, তাদের পিতা ইবলিসের অনুসারী। যারা কাফের জিন, তাদেরকে সাধারণভাবে ‘শয়তান’ বলা হয়। ২. ‘খানজাব’ – খানজাব হচ্ছে বিশেষ একপ্রকার জ্বীন, যারা মানুষ যখন সালাতে দাঁড়ায় তাদেরকে নানান রকম চিন্তা মাথায় ঢুকিয়ে নামাজ থেকে অমনোযোগী ও উদাসীন করে তুলে। মুয়াত্তা মালিক :স্বলাত অধ্যায় ৩, হাদিস ১৫২ ৩. ‘ওলহান’ – এরা হচ্ছে একপ্রকার শয়তান জ্বীন যারা মানুষকে ওযুর সময় ওয়াসওয়াসা দেয়। ওয়াসওয়াসাগ্রস্থ মানুষেরা ওযুতে ভুল করে বেশি। ৪. ‘ক্বারীন’ – ক্বারিন অর্থ হচ্ছে সংগী, প্রত্যেক মানুষের সাথেই শয়তান জ্বীন লেগে থাকে, সংগী হিসেবে। এরা সবসময় বান্দার অন্তরে খারাপ চিন্তা ঢুকিয়ে দিয়ে পাপ কাজ করতে উতসাহিত করে। ক্বুরানে আল্লাহ এদের কথা উল্লেখ করেছেন সুরাতুল ক্বাফ-(১৯-২৯) এ।
খ্রিস্টান উৎস
ওল্ড টেস্টামেন্টের যে হিব্রু শব্দকে ইংরেজিতে সাধারণত “ফ্যামিলিয়ার স্পিরিট” বলা তা ভ্যান ডিকের আরবি অনুবাদে সমষ্টিবাচক বহুবচন হিসেবে কয়েক জায়গায় (الجان আল-জান) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।








বিচিত্রবিশ্ব পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com