আবহাওয়া বিশ্বঘড়ি মুদ্রাবাজার বাংলা দেখা না গেলে                    
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীকে জাতিসংঘের মহাসচিবের ফোন: জাতিসংঘকে মিয়ানমার উপর চাপ দেওয়ার আহ্বান      মালয়েশিয়ায় ভূমিধসে তিন বাংলাদেশি নিহত      জামিন চাইতে ২৪ অক্টোবর কুমিল্লায় আসবেন খালেদা জিয়া      চীনের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টার অভিযোগ:আটক কমিউনিস্ট পার্টির ৬ নেতা      যে কারণে সিঙ্গাপুরে প্রবাসী শ্রমিকরা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে       প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় পুলিশের হাতে আটক কেন্দ্রীয় নেতা রানা ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার      কাবুলে মসজিদে আত্মঘাতী হামলা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাড়াল ৭২      
গ্যাস সরকারের, টাকা লুটে সিন্ডিকেট
নেয়ামতউল্লাহ শিমুল
Published : Tuesday, 31 January, 2017 at 1:05 AM
গ্যাস সরকারের, টাকা লুটে সিন্ডিকেট * মিরপুর দুয়ারীপাড়া ও পল্লবীতে গ্যাস লুটেরা 
* তিন হাজার লাইন চালায় সন্ত্রাসী শরীফ
* টাকা জমা হয় লতিফ মোল্লা-নাজমাদের হাতে
* ড্রেনের ভেতর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস লাইন

রাজধানীর মিরপুর-পল্লবীর মহল্লায় মহল্লায় চলছে গ্যাস চুরির হিড়িক। বিপজ্জনকভাবে অবৈধ সংযোগ দেয়া হচ্ছে ঘরে ঘরে। সংযোগ ফি আর বিল বাবদ প্রতি মাসেই কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। ড্রেন ও স্যুয়ারেজ লাইনের মধ্য দিয়ে মাইলের পর মাইল চোরাই পাইপ লাইন বসিয়ে সরবরাহ যাচ্ছে গ্যাসের। যখন তখন সংযোগ মিলছে আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প-কারখানায়। রাজধানীর সর্বত্র গ্যাস সঙ্কট থাকলেও সেখানকার চোরাই লাইনে গ্যাসের অভাব থাকে না মোটেও। অবৈধ গ্রাহকদের থেকে প্রতি মাসে চড়া মূল্যের বিলও আদায় করা হচ্ছে। গ্রাহকরাও চোরের উপর বাটপারি চালিয়ে থাকেন। একটি সংযোগের বিপরীতে আরো তিনটি বাইপাস সংযোগ দিয়ে তিনগুণ বিল হাতিয়ে নেন তারা। 
বছরের পর বছর ধরে রীতিমত এমএলএম পদ্ধতিতে ‘গ্যাস চুরির সম্প্রসারণ’ ঘটেই চলছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য’র ভাই আলী মোল্লাহ’র নেতৃত্বে তিতাস গ্যাসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের গ্যাস লুটপাট থামাতে পারছে না কেউ। অভিন্ন স্টাইলেই গ্যাস চুরি ও লুটপাটের মচ্ছব চলছে রাজধানীর সোলমাইদ, সাঈদনগর, মান্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায়। রাজধানী ঘেষা টঙ্গী শিল্পাঞ্চলে চলছে গ্যাস লুটের ভয়াবহ কারবার। 
ভাটারা থানার সাঈদনগর আবাসিক এলাকায় তিন সহ¯্রাধিক বাড়িঘরে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে গ্যাসের ব্যবহার চলছে। সেখানকার ক্ষুদে ও মাঝারি আকারের শিল্প-কারখানাও পেয়েছে গ্যাস সংযোগ। চলছে বাণিজ্যিক হোটেল রেস্তোরা, বেকারি কারখানাও। কিন্তু কারো থেকেই নাকি বিল নেয় না তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট বাসিন্দারা জানান, সাঈদনগর আবাসিক বাড়ি মালিক সোসাইটি প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ফ্ল্যাটগুলো থেকে গ্যাস বিল আদায় করে নেয়। এক চুল্লি ৪০০ টাকা, দুই চুল্লি ৮০০ টাকা হারেই বিল দিতে হয়। সোসাইটি গ্যাস বিল বাবদ হাতিয়ে নেয়া বিপুল পরিমাণ টাকা সুদের ব্যবসায় খাটিয়ে থাকে বলেও জানা গেছে। 
সোসাইটির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে কোনদিন বিল দাবি করলে তা সোসাইটির পক্ষ থেকে পরিশোধ করার চিন্তা ভাবনা আছে। আর বকেয়া ড়বল না চাইলে তো সোসাইটির জন্য ভালই হয়।’ সচেতন বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, টাকা পরিশোধ ছাড়া যথেচ্ছা গ্যাস ব্যবহারের ‘মগের মুল্লুক’ হচ্ছে সাঈদনগর। কোন্ অজ্ঞাত প্রভাবে সরকারি রাজস্ব লুটপাটের মচ্ছব চলছে তা বোধগম্য নয়। তবে তিতাস গ্যাস কোম্পানির বাড্ডা বিপনন ও বিতরণ কেন্দ্রের এক ব্যবস্থাপক জানান, সাঈদনগর আবাড়সক এলাকায় গ্যাসের একটাও বৈধ সংযোগ নেই। অবৈধ সংযোগের বিপরীতে বিল প্রদান বা উত্তোলনের কোনো উপায় নেই। 
মিরপুর দুয়ারীপাড়া ও পল্লবী এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে ৫ হাজার। স্থানীয় রাজনীতিবিদ পুলিশ ও তিতাস গ্যাস কর্মকর্তা মিলে সিন্ডিকেট তৈরি  করে, বছরের পর বছর গ্যাস চুরির মাধ্যমে লুটে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। সরকারী নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এ সিন্ডিকেট এককালিন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে সংযোগ দিয়ে থাকেন। এরপর প্রতিমাসে ডাবল চুলায় ১২শ ও সিঙ্গেল চুলায় ৮শ টাকা হারে চাঁদা নিয়ে পরিচালনা করে আসছে বছরের পর বছর। 
সরেজমিনে দেখা যায়, দুয়ারীপাড়া তালতলা রোড থেকে ঝিলপাড় পর্যন্ত।  ক ব্লক থেকে খ ব্লকের আনবিক শক্তি পর্যন্ত, দেখা যায় সারিসারি টিনসেড ঘরে নর্দমা ও ড্রেনের ভিতর দিয়ে প্লাস্টিকের পাইপের মাধ্যমে ঝুকিপূর্ন গ্যাস লাইন। কোথাও কোথাও পাইপ লিক হয়ে গ্যাস বের হতেও দেখা যায়। যে কোন মূহুর্তে এ অঞ্চলে ঘটতে পারে ভয়াবহ দূর্ঘটনা। দুয়ারীপাড়ার সিন্ডিকেটে রয়েছে সুজন মোল্লা, মালেক, দুলাল, মজিবর মোল্লা, নায়েব আলী ও শহীদ। এ ছয়জন লাইনম্যান চাঁদা তুলে জমা দেন কথিত ক্যাশিয়ার লুৎফরের কাছে। এরপর ক্যাশিয়ার টাকা বুঝিয়ে দেন সিন্ডিকেট প্রধান লতিফ মোল্লা, মোবারক মেম্বার ও নাজমা আক্তারের কাছে। 
সিন্ডিকেট প্রধানদের হাত হয়ে এ চাঁদার একটি অংশ চলে যায় রুপনগর থানার ওসির নামে। অপর একটি অংশের টাকা যায় তিতাস গ্যাসের ইঞ্জিনিয়ার পরিচয়দাতা জনৈক আক্তার হোসেনের হাতে, তবে প্রধান অংশটি যায় স্থানীয় সাংসদের ছোট ভাই আলী মোল্লাহর পকেটে। পল্লবীর পলাশনগর এলাকায় ও রজনীগন্ধা মাকের্টের পিছন থেকে নাছিরের বস্তি পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার সংযোগ পরিচালনা করেন পুলিশের তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী শরীফ মিয়া। ওই এলাকায় শরীফের সন্ত্রাসী সহযোগিরা গ্যাস বিল তুলে তিনটি ভাগ করে থাকে। এক ভাগ তিতাস গ্যাস কর্মকর্তাদের জন্য, অন্য ভাগ আলী মোল্লাহ’র নামে এবং বাকি অংশ শরীফ মিয়া নিজে ভোগ করেন।
দেশে শিল্প, বাণিজ্য ও আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকলেও গাজীপুর ও টঙ্গী’র আবাসিক এলাকায় সহ¯্রাধিক অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে গ্যাস চুরির মহোৎসব চলছে। অবৈধ সংযোগ ও পুরনো সংযোগ থেকে অবৈধ ভাবে চুলা বৃদ্ধি করে প্রতি মাসে প্রায় কোটি টাকার গ্যাস চুরি হচ্ছে। গত দুই বছরে চুরি হয়েছে কমপক্ষে ২০ কোটি টাকার গ্যাস। টঙ্গীর সাতাইশ, গাজীপুরের বোর্ডবাজার, খাইলকৈর, উত্তর খাইলকৈর, কুনিয়াপাচর, বড়বাড়ি, কলমেশ্বর, রোকেয়া স্বরণী সড়ক, ডেগের চালা, মোগর খাল, চৌরাস্তা, গ্রেটওয়াল সিটি, রওশন সড়ক, তেলীপাড়া, জেলা শহরের হাড়িনাল, ভোগড়া, রথখোলা, লক্ষীপুরা, কলাবাগান, চন্দ্রা অঞ্চলের জরুন, কোণাবাড়ি, কাশিমপুর ও শফিপুর এলাকায় সহ¯্রাধিক অবৈধ রাইজার উত্তোলন এবং ৬-৭ হাজার চুলায় অবৈধ সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকার গ্যাস চুরিতে সহায়তা করছে। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সার্ভিস টিমের এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন থেকে গ্যাসের নতুন সংযোগ বন্ধ থাকায় কিছু ঠিকাদার চুরি করে অবৈধ সংযোগ দিয়ে টাকা নেয়। ওই টাকা এবং চুলার মাসিক বিল আদায় করে ক’জন ঠিকাদার গ্যাস অফিসের লোকজনকে একটি ভাগ দেয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, মৌখিক চুক্তিতে বোর্র্ডবাজার এলাকায় ফয়েজ, সোলায়মান, চন্দ্রা অঞ্চলে জাহাঙ্গীর ও কবির এবং জয়দেবপুরে আলম, জয়নাল ও আমিনুল, টঙ্গী গ্যাস অফিসের কর্মচারি রহিমসহ ১০-১২ জন ঠিকাদার প্রতিটি অবৈধ সংযোগ বাবদ প্রকার ভেদে এক থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে রাইজার উত্তোলন করেছে।

সূত্র: মঙ্গলবার ২৪ জানুয়ারী ২০১৭ সংখ্যা







অপরাধ পাতার আরও খবর
আজকের রাশিচক্র
সম্পাদক : ইয়াসিন আহমেদ রিপন

ঝর্ণা মঞ্জিল, মাষ্টার পাড়া, মাইজদী, নোয়াখালী। ঢাকা: ৭৯/বি, এভিনিউ-১, ব্লক-বি, মিরপুর-১২, ঢাকা-১২২৬, বাংলাদেশ।
ফোন : +৮৮-০২-৯০১৫৫৬৬, মোবাইল : ০১৯১৫-৭৮৪২৬৪, ই-মেইল : info@bdhotnews.com